নিরাপরাধ লোকের বাড়িতে হামলা মেনে নেওয়া যায় না - শামা ওবায়েদ

জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
Apr 4, 2025 - 21:32
 0  17
নিরাপরাধ লোকের বাড়িতে হামলা মেনে নেওয়া যায় না - শামা ওবায়েদ

আমরা চাই যে যার দল করুক, যে যার মত প্রকাশ করুক—কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু একটি নিরাপরাধ লোকের বাড়িতে হামলা, তা মেনে নেওয়া যায় না, মেনে নেওয়া উচিত না—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগীয়) শামা ওবায়েদ। ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সংঘর্ষস্থল উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শামা ওবায়েদ ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।

পরিদর্শনকালে তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফছার মাতুব্বরকে ঘটনার জন্য দায়ী করেন এবং তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, বিএনপির কোনো কর্মীর ওপর "ফুলের টোকা" পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, "যদি আফছার চেয়ারম্যান এই সমাজে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চান, তাহলে তাকে দলমত নির্বিশেষে একসঙ্গে চলতে হবে। আর যদি এ ধরনের অন্যায় কাজ করেন, তাহলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিতে হবে।"

শামা ওবায়েদ বলেন, "আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার—বিএনপি কারও ওপর নির্যাতন করতে চায় না। কিন্তু কেউ যদি বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান কিংবা আমার কোনো নেতার কর্মীর ওপর আক্রমণ চালায়, তাহলে তাকে অবশ্যই আইনের আশ্রয় নিতে হবে। আমরা সালথায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। সেই শান্তি যদি কেউ বিনষ্ট করে, অশান্তি তৈরি করে, তবে প্রশাসনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।"

স্থানীয় বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়াকে নিরাপদ দাবি করে তিনি বলেন, "মিন্টুর দোষ ছিল রোজার মাসে বিএনপির ইফতার পার্টিতে যোগ দেওয়া। এ কারণে নিরাপরাধ লোকের বাড়িতে হামলা হয়েছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।"

এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান এবং দলীয় কর্মীদের কেউ যদি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাদেরও আইনের আওতায় আনার কথা বলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের প্রায় ২০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয় এবং দুটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন।

এ ঘটনায় এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হারুন মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়া এবং অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আফছার মাতুব্বরের সমর্থক বেলায়েত মোল্যা। সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow