বৈসাবি উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে চারদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন শুরু

বর্ষবরণ উৎসব উপলক্ষে চারদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি শুরু হয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়। আজ বিকেলে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের সবচেয়ে বড় উৎসব বর্ষবরণ উৎসব। পাহাড়ের প্রধান জনগোষ্ঠী ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা জনগোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন নামে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপন করে থাকে। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী বর্ষবরণ উৎসব পালন করে থাকে বৈসু নামে, মারমা জনগোষ্ঠী সাংগ্রাই এবং চাকমা জনগোষ্ঠী বিজু নামে বর্ষবরণের এ উৎসব পালন করে থাকে। এ তিন জনগোষ্ঠীর উৎসবের নামের আদ্যক্ষর নিয়ে একত্রে এ উৎসবকে বৈসাবি নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেলের দিকে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ৪ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখ পর্যন্ত চারদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি শুরু করেছে। চারদিনব্যাপী এই আয়োজনে রয়েছে—শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতা, কোমড় তাঁতের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী, বৈচিত্র্যময় মেলা, উৎসব বিষয়ক আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রুমানা আক্তার, জেলা পরিষদের সদস্য প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা ও জয়া ত্রিপুরা, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক প্রভাংশু ত্রিপুরা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, “এই বর্ণাঢ্য আয়োজন আমাদের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। কোমর তাঁতের প্রদর্শনী পাহাড়ি নারীদের ঐতিহ্যবাহী বুননশিল্পকে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করবে, যা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
তিনি আরও বলেন, “বৈসু-সাংগ্রাই বিজু-বিহু-বিষুসহ চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব শুধুই আনন্দের নয়, বরং এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহাবস্থান ও একাত্মতার প্রতীক। এই উৎসব আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলে এবং নতুন বছরের শুভ সূচনা করে।”
ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং' র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আজকের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শ্রীলা তালুকদার ও লেখক অংসুই মারমা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক জীতেন চাকমা।
What's Your Reaction?






