লৌহজংয়ে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বাবাকে হত্যা, থানায় মামলা

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় মেয়েকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বাবা এম.এ বাকার (৫৫) কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে তৌনিক শশীনূর যুথী (২৭) বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে লৌহজং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে লৌহজং উপজেলার সাতঘড়িয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন হলদিয়া ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া এলাকার শেখ তোফায়েল আহাম্মেদ জামাল (৫৪), মো. ফয়সাল ওরফে বাবু (৪২) এবং মো. কামাল শেখ (৫৬)।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত এম.এ বাকার নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মোহরপাড়া এলাকার বাসিন্দা হলেও পরিবারসহ লৌহজং উপজেলার সাতঘড়িয়ায় বসবাস করতেন। নিহতের স্ত্রী রওশন আরা (৫০) এর সঙ্গে অভিযুক্ত শেখ তোফায়েল আহাম্মেদের ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল।
বাদীর অভিযোগ, শেখ তোফায়েল আহাম্মেদ ভয় দেখিয়ে তার মায়ের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্প ও কাবিননামায় স্বাক্ষর নেন এবং তাদের নানাভাবে হয়রানি করছিলেন। এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে তৌনিক শশীনূর যুথী ও তার পরিবারের সদস্যরা শ্রীনগর যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করেন।
এ সময় শেখ তোফায়েল আহাম্মেদ নিহত এম.এ বাকারকে গালিগালাজ করলে তার দুই মেয়ে প্রতিবাদ করেন। এরপর অভিযুক্তরা এম.এ বাকারকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বেলা ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুন অর রশীদ জানান, “আমরা জানতে পেরেছি দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে এম.এ বাকার মাটিতে পড়ে যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে তার শরীরে আঘাতের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি।”
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
What's Your Reaction?






